প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালালামকে ভালোবাসার গুরুত্ব
হুব্বে রাসূল-এর পরিচয় প্রয়োজনীয়তা ও আমাদের করণীয়
ড. কাজী মুহাম্মাদ ওমর ফারুক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সূচনা:
সকল
প্রশংসা অতীব মহীয়ান গরীয়ান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়া’লার জন্য, যিনি আমাদেরকে সৃজন করেছেন, আমরা তার কাছেই সাহায্য
চাই এবং তার উপরই ভরসা করি। অগনিত দুরুদ ও সালাম বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রতি, তার একান্ত অনুসারী সাহাবাগণ এবং আহলে বাইতদের উপরও
বর্ষিত হোক রাব্বুল আলামীনের অজস্র করুনার ধারা।
উম্মতে মুহাম্মাদী অর্ন্তভূক্ত
হয়ে শেষ জামানায় আমাদের আগমন ও মুসলিম পরিবারে জন্ম হওয়াতে আমরা স্বভাবগতভাবে
মুসলিম এবং জেনে হোক বা না জেনে হোক, ইচ্ছা- অনিচ্ছায় আমরা অধিকাংশ মুসলমানরাই
প্রিয় নবী, সাইয়েদুল মুরছালীন, খাতামুন্নাবীঈয়ীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, সরদারে
দো-আলম, হাদীউল বাশার ওয়াল জিন্ন, শাফীউল মুজনেবীন, নবীকূল শিরোমনি, বিশ্বনবী হযরত
মুহাম্মাদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসি। হুব্বে রাসূল বা রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা ঈমান ও হেদায়াত পাবার
অন্যতম মৌলিক শর্ত।
ইসলামকে সমগ্র মানব জাতির
জন্য সর্বশেষ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে চূড়ান্ত করে দিয়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়াতায়া’লা কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে
পরিপূর্ণ করে দিয়েছি, আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি
সম্পূর্ণ করেছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছি”।[1]
কুরআনুল মাজীদের আলোকে হুব্বে রাসূল এর পরিচিতি
ইসলামের যে কোন প্রয়োজনীয়
বিধি-বিধান কিংবা আবশ্য বিষয়ে সর্বপ্রথম কুরআনুল মাজীদের দিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত।
সে জন্যই আমরা শুরুতে দেখবো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়া’লা তার কিতাবে তার নবী
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার বিষয়ে কী বলেছেন।
১. আল কুরআনের নবম অধ্যায়
সূরা আত তাওবা-এর ১২৮ ও ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
﴿لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ
أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ
رَءُوفٌ رَّحِيمٌ- فَإِن
تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ﴾
দেখো, তোমাদের
কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকে একজন রসূল৷ তোমাদের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া তার জন্য
কষ্টদায়ক৷ সে তোমাদের কল্যাণকামী ৷ মুমিনদের প্রতি সে স্নেহশীল ও করুণাসিক্ত ৷ এখন
যদি তারা তোমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে হে নবী!
তাদেরকে বলে দাও, “আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট তিনি ছাড়া আর
কোন মাবুদ নেই৷ আমি তার ওপরই ভরসা করেছি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি”৷ (আত
তাওবা, ৯: ১২৮ -১২৯)
২. সূরা
আলে ইমরানের ৩১-৩২নং আয়াতে আল কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণাঃ
আল
কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণাঃ
﴿قُلْ إِن
كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ
لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ-قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ
وَالرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ﴾
“হে নবী! লোকদের বলে দাওঃ ‘‘যদি
তোমরা যথার্থই আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ
তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ মাফ করে দেবেন ৷ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও
করুণাময়৷। তাদেরকে বলোঃ আল্লাহ ও রসূলের
আনুগত্য করো, তারপর যদি তারা তোমাদের এ দাওয়াত গ্রহণ না করে, তাহলে
নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ এমন লোকদের ভালোবাসবেন না, যারা
তাঁর ও তাঁর রসূলদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে।”(আলে
ইমরান, ২: ৩১-৩২)
৩.
সূরা আন নিসা-এর ৬৯-৭০নং আয়াতে আল কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণাঃ
﴿وَمَن يُطِعِ
اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم
مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ ۚ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا-ذَٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ
اللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ عَلِيمًا﴾
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের
আনুগত্য করবে সে তাদের সহযোগী হবে,যাদেরকে আল্লাহ পুরস্কৃত করেছেন নবী, সিদ্দীক, শহীদ
ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে ৷ মানুষ যাদের সংগ লাভ করতে পারে তাদের
মধ্যে এরা কতই না চমৎকার সংগী। আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এই হচ্ছে প্রকৃত
অনুগ্রহ এবং যথার্থ সত্য জানার জন্য একমাত্র আল্লাহর জ্ঞানই যথেষ্ট।”(আন
নিসা, ৩: ৬৯-৭০)
৩.
সূরা আত তাওবা-এর ২৪নং আয়াতে আল্লাহ জাল্লা জালালুহু বলেন:
﴿قُلْ إِن كَانَ
آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ
وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ
تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي
سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
‘‘হে নাবী, বল: তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র
তোমাদের সে সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর সে ব্যবসা
যার মন্দ হওয়ার আশংকা তোমরা করছ, এবং সে বাসস্থান
যা তোমরা পছন্দ করছ, যদি তোমাদের কাছে অধিক প্রিয়
হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তার পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা অপেক্ষা কর আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা
পর্যন্ত।’’ (আত-তাওবাহ, ৯:২৪)
রাসূলকে ভালোবাসা ঈমানের পূর্ব শর্ত
ভালোবাসা এর পরিচয় দিতে গিয়ে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারীতে বলা হয়েছে: An
intense feeling of deep affection বা মনের তীব্র অনুভূতির গভীর প্রদর্শনই হচ্ছে ভালোবাসা। ঈমানের
পূর্ব শর্ত হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা। যার
মনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসার কমতি থাকে সে
মুমিমন হওয়ার অযোগ্য। নিম্নে বিষয়টি
সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
রাসূলকে ভালোবাসা ঈমানের প্রধান সাতটি শাখার একটি:
امنت بالله وملئكته وكتبه
ورسله واليوم الاخر والقدر خيره وشره من الله تعالى والبعث بعد الموت
উচ্চারণঃ- আমানতু বিল্লাহি ওয়ামালাইকাতিহী ও কুতুবিহী ওয়াল ইয়াওমিল আখিরী ওয়াল ক্বাদরী খইরিহী ওয়া শাররিহী মিনাল্লাহি তা'আলা ওয়াল বা'ছি বা'দাল মাউত।
অর্থঃ- প্রথমত-আমি ঈমান
আনলাম আল্লাহ তা'আলার উপর
দ্বিতীয়ত- ঈমান আনলাম তাঁর ফেরেশতারগণের উপর
তৃতীয়ত- ঈমান আনলাম তাঁর কিতাব সমূহের উপর
চতুর্থত- ঈমান আনলাম তাঁর রাসূলগণের উপর
পঞ্চমত- ঈমান আনলাম আখিরাতের উপর
ষষ্ঠত- ঈমান আনলাম তাক্বদীরের উপর
সপ্তমত- ঈমান আনলাম মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার উপর। ঈমানের
এ প্রধান সাতটি বিষয়ের কোনটি মন বা অন্তরের সাথে সম্পর্কিত, কোনটি শরীরের সাথে,
কোনটি আবার জিহ্বার সাথে সম্পর্কিত।
তবে ঈমানের চতুর্থ
উপাদানটি রাসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার বিষয়টি জিহবা, মন, শরীরসহ সবকিছুকে
অর্ন্তভূক্ত করে। রাসূলকে বিশ্বাস করা, তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা, তাকে ভালোবাসা,
তার প্রতি সালাম ও দুরুদ পাঠ করা এবং তার সাহাবা ও পরিবার পরিজনকে ভালোবাসা ঈমানের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা রাসূলের প্রতি সালাম ও
সালাত পাঠ করতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ
يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾
“আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে
ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠাও৷ ” এ
আয়াতের ব্যখ্যায় বলা হয়েছে-
“ হে লোকেরা! মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহর বদৌলতে তোমরা যারা সঠিক
পথের সন্ধান পেয়েছো তারা তার মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তার মহা অনুগ্রহের হক আদায়
করো। তোমরা মূর্খতার অন্ধকারে পথ ভুলে বিপথে চলছিলে, এ ব্যক্তি তোমাদের জ্ঞানের আলোক বর্তিকা দান করেছেন।
তোমরা নৈতিক অধ:পতনের মধ্যে ডুবেছিলে, এ ব্যক্তি
তোমাদের সেখান থেকে উঠিয়েছেন এবং তোমাদের মধ্যে যোগ্যতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যার ফলে আজ অন্য মানুষ তোমাদেরকে ঈর্ষা করে।
তোমরা বর্বর ও পাশবিক জীবন যাপন করছিলে, এ ব্যক্তি
তোমাদের সর্বোত্তম মানবিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাজে সুসজ্জিত করেছেন।
তিনি তোমাদের ওপর এসব অনুগ্রহ করেছেন বলেই দুনিয়ার কাফের ও মুশরিকরা এ ব্যক্তির
বিরুদ্ধে আক্রোশে ফেটে পড়ছে৷ নয়তো দেখো, তিনি কারো সাথে
ব্যক্তিগতভাবে কোন দুর্ব্যবহার করেননি। তাই এখনি
তোমাদের কৃতজ্ঞতার অনিবার্য দাবী হচ্ছে এই যে, তারা
এ আপাদমস্তক কল্যান ব্রতী ব্যক্তিত্ত্বের প্রতি যে পরিমাণ হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ
করে ঠিক এই পরিমাণ বরং তার চেয়ে বেশী ভালোবাসা তোমরা তার প্রতি পোষণ করো৷ তারা
তাকে যে পরিমাণ ঘৃণা করে ঠিক ততটাই বরং তার চেয়ে বেশীই তোমরা তার প্রতি অনুরক্ত
হবে৷ তারা তার যতটা নিন্দা করে ঠিক ততটাই বরং তার চেয়ে বেশী তোমরা তার প্রশংসা
করো। তারা তা যতটা অশুভাকাংখী হয় তোমরা তার ঠিক ততটাই বরং তার
চেয়ে বেশী শুভাকাংখী হয়ে যাও। এবং তার পক্ষে সেই একই দোয়া
করো যা আল্লাহর ফেরেশতারা দিনরাত তার জন্য করে যাচ্ছে, হে দোজাহানের রব! তোমার নবী যেমন আমাদের প্রতি বিপুল
অনুগ্রহ করেছেন তেমনি তুমিও তার প্রতি অসীম ও অগণিত রহমত বর্ষণ করো, তাঁর মর্যাদা দুনিয়াতেও সবচেয়ে বেশী উন্নত করো এবং
আখেরাতেও তাকে সকল নৈকট্যলাভকারীদের চাইতেও বেশী নৈকট্য দান করো।”[2]
আব্দুল্লাহ ইবনে হিশাম (রা.)
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা নবী (সা.) এর সাথে ছিলাম। নবী (সা.) হযরত ওমর (রা.)
এর হাত ধরা ছিলেন। অত:পর ওমর (রা.) রাসূল (সা.)কে বললেন: হে রাসূল আমি আপনাকে
সবচাইতে বেশি ভালবাসি তবে আমার নিজের চাইতে বেশি নয়। নবী (সা.) বললেন: তাহলে হবে
না; আল্লাহর শপথ! তোমার নিজের চাইতেও আমাকে
বেশি ভালবাসতে হবে। তখন ওমর (রা.) বললেন: এখন আমি আপনাকে নিজের চেয়েও বেশি
ভালবাসি। অত:পর নবী (সা.) বললেন: হে ওমর তাহলে এখন ঠিক আছে (এখন তুমি মুমিন হলে)’’[3]।
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا
يُؤمِنُ أحدُكم حتى أكونَ أحبَّ إليهِ من والدِه وولدِه والناسِ أجمعينَ
‘‘তোমাদের কেউই
ঈমানদার হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান
ও সকল মানুষ হতে প্রিয়তম না হই।’’[4] এ
হাদীসের আলোকে হুব্বে রাসূল প্রতিটি মুমীনের উপর ফরজ। কেননা তার মুসলিম হওয়ার
ভিত্তি হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কালেমায়ে
শাহাদাতাইনের দৃটি অংশের একটি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস অন্যটি রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বিশ্বাস ও তদানুযায়ী আমল করা।
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে এ
সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা পোষণ না করলে ঈমানদার
বলে কেউ বিবেচিত হবে না। অতএব ঈমানের অনিবার্য দাবী হল- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা। কেননা:
·
নবীর প্রতি
উম্মতের মহব্বত প্রকারান্তরে আল্লাহর প্রতি মহব্বতেরই বহিপ্রকাশ। আর যে আল্লাহর
ভালোবাসা পাবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত।
·
নবীকে ভালোবাসা
ঈমানের অংশ
·
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন মানব জাতির সাচেয়ে উত্তম ও আদর্শ ব্যক্তির নমুনা[5],
সূতরাং সর্বোত্তম ভালোবাসার হকদার তিনি হওয়াই বিবেকের দাবী।
·
নবী আমাদের
দ্বীন শেখানোর জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। আমাদের মিথ্যা এ অন্ধকারের পথ থেকে
আলোর পথে আনতে আজীবনের চেষ্টার বিনিময়ে তাকে জীবন দিয়ে ভালোবাসা তার প্রাপ্য হকও
বটে।
রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনে সাহাবীদের দৃষ্টান্ত:
এক. হিজরতের সফরে মক্কা থেকে
পাঁচ মাইল পথ অতিক্রম করে রাতের আঁধারে মহানবী (সা.) ও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী আবু
বকর সিদ্দিক (রা.) সওর পাহাড়ে পৌঁছলেন। পাহাড়ের জঞ্জালপূর্ণ গুহার মুখে আল্লাহর
রাসুল (সা.)-কে অপেক্ষা করার মিনতি জানিয়ে আবু বকর গুহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে
দেখলেন ভেতরে মাটিতে বেশ কিছু ছিদ্র রয়েছে, যাতে সাপ-বিচ্ছুর থাকতে পারে। এজন্য
তিনি নিজের সঙ্গে থাকা অতিরিক্ত কাপড়ের টুকরো দিয়ে সেগুলোর মুখ বন্ধ করলেন।
কিন্তু দুটি ছিদ্র বাকি থাকতেই কাপড় শেষ হয়ে যাওয়ায় ছিদ্র দুটি নিজের
গোড়ালিচাপা দিয়ে রাসুল (সা.)-কে ভেতরে আহ্বান করলেন। আল্লাহর রাসুল (সা.)
ক্লান্ত শরীরে হজরত আবু বকরের বিছিয়ে দেওয়া ঊরুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন।
ওদিকে গর্তের ভেতর থেকে বিষাক্ত বিচ্ছু আবু বকরের পায়ে দংশন করে । বিষক্রিয়ায় যন্ত্রনায়
তার জীবন যাওয়ার উপক্রম। কিন্তু রাসুলের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা, নড়াচড়া করলে প্রিয় রাসুলের
ঘুম ভেঙে যাবে ভয়ে অসহ্য যন্ত্রণাসহ আবু বকর স্থির ছিলেন। কিন্তু বিষক্রিয়ার
প্রাবল্যে তাঁর অজ্ঞাতে এক ফোঁটা অশ্রু রাসুলের মুখে ঝরে পড়ায় আল্লাহর হাবিবের
ঘুম ভেঙে যায়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, 'আবু বকর, আপনি কাঁদছেন? আবু বকর জবাব দিলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার প্রতি আমার মাতা-পিতা উৎসর্গিত হোক! আমাকে বিচ্ছু দংশন করেছে।' রাসুল (সা.) ক্ষতস্থানে থুতু
লাগিয়ে দিতেই আবু বকর বিষযন্ত্রণা থেকে আরোগ্য লাভ করেন। আর আল্লাহর রাসুল তাঁর
জন্য দোয়া করেন, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, মানুষ যখন আমাকে অবিশ্বাস করেছে, তখন আপনি আমাকে বিশ্বাস করেছেন; মানুষ যখন আমাকে অপদস্থ করেছে, তখন আপনি আমাকে সাহায্যে
করেছেন; আপনি আমার ওপর ইমান এনেছেন, যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছে আর উদ্বিগ্ন অবস্থায় আপনি আমাকে সাহচর্য দান
করেছেন' (বোখারি)।
দুই: রাসুলের প্রতি
ভালোবাসার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছিলেন সাহাবায়ে কেরাম উহুদের যুদ্ধের সময়।
মুসলমানরা যখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদের আকস্মিক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়লেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন
নিরাপত্তাহীন অবস্থায়, তখন হজরত আবু দুজানা (রা.) নিজেকে ঢাল বানিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রক্ষা
করতে লাগলেন। কাফিরদের অবিরাম নিক্ষিপ্ত তীরগুলো তাঁর পিঠে বিদ্ধ হচ্ছিল, আর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে
আড়াল করে ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিলেন। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আল্লাহর
রাসুলের ওপর কাফিরদের আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করছিলেন। হজরত সাদ বলেন, 'আবু দুজানা একটার পর একটা তীর
আমাকে দিয়ে চলেছেন আর বলছেন, তুমি তীর নিক্ষেপ করতে থাকো।[6]
ঘটনার ধারাবিবরণী থেকে মনে
হয়, আবু দুজানা নিজের
শরীরে বিদ্ধ তীরগুলো খুলে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে সরবরাহ করছিলেন। রাসুলের প্রতি
নিজ জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসার প্রমাণ আর কী থাকতে পারে! উহুদের যুদ্ধ সমাপ্তির
পর কাফিররা রণাঙ্গন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) শহীদ ও আহতদের খবর
নিতে লাগলেন। হজরত জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, "রাসুলে করিম (সা.) আমাকে সাদ
ইবনে রবির খোঁজ নিতে পাঠালেন। রাসুল (সা.) আমাকে বলে দিলেন, 'যদি সাদকে পাওয়া যায়, তাহলে তাকে আমার সালাম দেবে
এবং জিজ্ঞাসা করবে, সে এখন কেমন বোধ করছে।' আমি শহীদদের লাশের মধ্যে তাকে খুঁজে পেলাম। দেখলাম তিনি মৃত্যুযন্ত্রণায়
কাতরাচ্ছেন। তাঁর শরীরে তীর, বর্শা ও তলোয়ারের সত্তরটি আঘাত লেগেছিল। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, 'হে সাদ, আল্লাহর রাসুল আপনাকে সালাম
দিয়েছেন এবং জানতে চেয়েছেন, আপনি এখন কেমন অনুভব করছেন।' হজরত সাদ ইবনে রবি (রা.) বললেন, 'আল্লাহর রাসুলকে আমার সালাম জানাবে, রাসুলকে জানাবে আমি জান্নাতের
খুশবু পাচ্ছি। আমার আনসার ভাইদের বলবে, যদি তোমাদের একটি চোখের স্পন্দন বাকি থাকা অবস্থায় শত্রুরা
আল্লাহর রাসুলের কাছে পৌঁছতে পারে, তাহলে আল্লাহপাকের দরবারে তোমাদের কোনো ওজর-আপত্তি কাজে
আসবে না।' এ কথা বলার পরই তিনি ইন্তেকাল করেন'"[7]
তিন: বনু দিনারের এক
মহিলা তার স্বামী, ভাই ও বাবা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। তাঁকে (ওয়াকিদীর বর্ণনা মতে যার নাম সুমাইয়া বিনতে
কায়েস) তাঁর ওই সব
আপনজনের নিহত হওয়ার খবর শোনানো হলে সে নির্বিকারভাবে বলল, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের কী অবস্থা?' সবাই বলল, তিনি ভালো। তুমি যেমন পছন্দ করো তিনি সে রকমই আছেন। মহিলা বলল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটু দেখাও। আমি তাঁকে দেখে নিই।' তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখানো হলো। মহিলা দেখেই বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি নিরাপদে আছেন, এটা দেখার পর আমার কাছে অন্য
কোনো মুসিবত নিতান্তই তুচ্ছ।[8]
চার: হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় উরওয়া
নামক এক কুরাইশ প্রতিনিধি: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সন্ধির
শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিল। ফিরে গিয়ে উরওয়া কুরাইশদের বললোঃ আমি অনেক আড়
আড় রাজ দরবারে গিয়েছি। কিন্তু আল্লাহর শপথ! আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
সংগী-সাথীদেরকে তাঁর প্রতি যেমন নিবেদিত প্রাণ দেখেছি তেমন দৃশ্য বড় বড় বাদশাহ
কায়সার, কিসরা বা নাজ্জাসীর দরবারেও দেখেনি। এদের অবস্থা এই যে, মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযু করলে তারা এক বিন্দু পানিও মাটিতে পড়তে দেয়
না, সবাই তো নিজেদের শরীর ও কাপড় মেখে নেয়। এখন চিন্তা করে দেখ, তোমরা
কার মোকাবিলা করতে যাচ্ছো? [9]
পাঁচ: মক্কা
বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে একদিন কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান মদীনায় হাযির। মদীনায়
ঢুকেই তিনি তার কন্যা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী
হযরত উম্মে হাবীবার ঘরে প্রবেশ করলেন। আবু সুফিয়ান বিছানায় বসতে গেলে উম্মে
হাবীবা বিছানা গুটাতে শুরু করলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে আবু সুফিয়ান বিস্মিত হলেন।
উম্মে হাবীবাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মা আমি কি এ বিছানার উপযুক্ত নই?
না এ বিছানা আমার উপযুক্ত নয় বলে তুমি মনে
করছ? উম্মে হাবীবা বললেন,
এটা আল্লাহর রাসূলের বিছানা। আর তুমি মুশরিক,
নাপাক। তাই আমি চাইনা যে,
তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের বিছানায় বস। এ কথা শুনে আবু সুফিয়ান মেয়ের কাছ থেকে বের হয়ে
অন্যত্র চলে গেলেন।[10]
ছয়:
হযরত যায়েদ ইবনে দাসানা রা. কাফিরদের হাতে বন্দী হবার পর
পাপিষ্ঠরা তাকে শূলে চড়ানোর আয়োজন করে। তামাশা দেখার জন্য সমবেত হয় অনেক লোক। আবু
সুফিয়ান তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি নরম সুরে জিজ্ঞাসা করলেন, যায়েদ!
সত্যি করে বলতো; আল্লাহর শপথ দিয়ে তোমাকে জিজ্ঞেস করছি,
তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, তোমার পরিবর্তে
মুহাম্মদের গর্দান উড়িয়ে দেয়া হোক আর তোমাকে হাসিমুখে তোমার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে
দেয়া হোক। হযরত যায়েদ রা. দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিলেন, আল্লাহর
শপথ! নবীজির যাত্রাপথে একটি কাঁটা লুকিয়ে রাখা হবে আর আমি ঘরে বসে আরাম করবো,
এতটুকুও আমার সহ্য হবে না। হযরত যায়েদের জবাব শুনে সেদিন মক্কার
কাফেররা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলো। আরব নেতা আবু সুফিয়ান মন্তব্য করেছিলেন, মুহাম্মদের প্রতি তার সাথীদের যে ভালোবাসা আমি দেখেছি, অন্য কারো প্রতি এমন ভালোবাসা আমি আর কখনো দেখিনি।[11]
সাত: কিশোর
সাহাবী হযরত যায়েদ বিন হারেসা রা. মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়ে গোলামরূপে আসার পর
তার পিতা কেঁদে কেঁদে তাকে খুঁজে ফিরছিল। এক সময় সন্ধান পেয়ে তার পিতা ও চাচা
মদিনায় গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলো। তারা
বিনীত সুরে আরজ করল, হে হাশেম বংশধর! আপনি হারামের অধিবাসী এবং
আল্লাহর ঘরের প্রতিবেশী। আপনি বন্দী মুক্ত করেন, ক্ষুধার্তদের
আহার দান করেন, আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। মুক্তিপণ নিয়ে
আমাদের পুত্রকে মুক্ত করে দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদের
পিতাকে বললেন, আপনি ওকে জিজ্ঞেস করুন, ও
যদি যেতে চায় তাহলে আপনারা ওকে নিয়ে যান; মুক্তিপণের কোন
প্রয়োজন নেই। আর যদি না যেতে চায় তাহলে আমরা ওর ওপর কোন চাপ প্রয়োগ করতে পারব না।
এরপর যায়েদ রা. উপস্থিত
হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগন্তুক দু’জনের দিকে
ইশারা করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এদের চেন? যায়েদ রা. বললেন হ্যাঁ, ইনি আমার পিতা আর ইনি আমার
চাচা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার
পরিচয়ও তোমার জানা আছে, সুতরাং এখন তোমার ইচ্ছে মনে চাইলে
আমার কাছে থাকতে পার, আর ইচ্ছে হলে তাদের সাথেও যেতে পার।
বালক যায়েদ জবাব দিলেন আমি আপনার পরিবর্তে আর কাকেই বা পছন্দ করতে পারি আপনিই তো
আমার বাবা-চাচার মতো। বালক যায়েদের এ জবাব শুনে পিতা ও চাচা আবেগ বিহ্বল কণ্ঠে বলে
ওঠলেন, যায়েদ! তুমি আজাদির উপর গোলামীকে প্রাধান্য দিচ্ছো?
হযরত যায়েদ রা. বললেন, আমি নবীজির মাঝে এমন সৌন্দর্য দেখেছি, যার বিপরীতে কোন কিছুই পছন্দ করতে পারি না। একথা শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোলে টেনে নিলেন আর বললেন, একে আমি আমার পুত্র বানিয়ে নিলাম। এক কিশোর সাহাবীরও কি গভীর ভালোবাসা ছিল নবীর প্রতি। পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের ভালোবাসাও সেখানে ম্লান হয়ে যায়।
হযরত যায়েদ রা. বললেন, আমি নবীজির মাঝে এমন সৌন্দর্য দেখেছি, যার বিপরীতে কোন কিছুই পছন্দ করতে পারি না। একথা শুনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোলে টেনে নিলেন আর বললেন, একে আমি আমার পুত্র বানিয়ে নিলাম। এক কিশোর সাহাবীরও কি গভীর ভালোবাসা ছিল নবীর প্রতি। পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের ভালোবাসাও সেখানে ম্লান হয়ে যায়।
কেন ভালোবাসবো প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালালামকে :
আমরা কেন আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসবো। আর কেনইবা আমরা তার আদেশ নিষেধকে সবার আগে
শিরোধার্য করে নেব? এতে আমাদের লাভ কী? এ
প্রশ্নের অজস্র উত্তর রয়েছে। তবে মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে
ভালোবাসার কয়েকটি প্রধানতম কারণ হলো:
প্রথমত:
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে
ভালোবাসা আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্যকে অধিকতর বর্ধিত করবে। ফলে আমরা অধিক ইবাদাতের
মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সক্ষম হবো।
দ্বিতীয়ত:
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা জান্নাত লাভে
সমর্থ হবো এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভ করতে পারবো।
তৃতীয়ত: শুধু ঈমানদার
হওয়ার জন্য নবীকে ভালোবাসা জরুরী। ঈমানের পূর্ণতার জন্যও
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসা আবশ্যক।
চতুর্থত: আল্লাহ সুাহানাহু
নিজে সমগ্র বিশআ জাহানের মুক্তির জন্য রাসূলকে মনোনীত করেছেন, নির্বাচন করেছেন এবং
আল্লাহর ভালোবাসা লাভের পূর্বশর্ত হিসেবে রাসূলের ভালোবাসাকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। হাদীসে
এসেছে:
إِذَا كَانَ يَوْمُ
الْقِيَامَةِ مَاجَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ فَيَأْتُونَ آدَمَ
فَيَقُولُونَ لَهُ اشْفَعْ لِذُرِّيَّتِكَ . فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ
عَلَيْكُمْ بِإِبْرَاهِيمَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - فَإِنَّهُ خَلِيلُ اللَّهِ .
فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِمُوسَى -
عَلَيْهِ السَّلاَمُ - فَإِنَّهُ كَلِيمُ اللَّهِ . فَيُؤْتَى مُوسَى فَيَقُولُ
لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ عَلَيْكُمْ بِعِيسَى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - فَإِنَّهُ
رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ . فَيُؤْتَى عِيسَى فَيَقُولُ لَسْتُ لَهَا وَلَكِنْ
عَلَيْكُمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَأُوتَى فَأَقُولُ أَنَا لَهَا .
فَأَنْطَلِقُ فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي فَيُؤْذَنُ لِي فَأَقُومُ بَيْنَ
يَدَيْهِ فَأَحْمَدُهُ بِمَحَامِدَ لاَ أَقْدِرُ عَلَيْهِ الآنَ يُلْهِمُنِيهِ
اللَّهُ ثُمَّ أَخِرُّ لَهُ سَاجِدًا فَيُقَالُ لِي يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ
رَأْسَكَ وَقُلْ يُسْمَعْ لَكَ وَسَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَقُولُ
رَبِّ أُمَّتِي أُمَّتِي . فَيُقَالُ انْطَلِقْ فَمَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ
مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ بُرَّةٍ أَوْ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ فَأَخْرِجْهُ مِنْهَا
আনাস (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষ বিপর্যন্ত অবস্থায় এদিক-সেদিক ছুটাছুটি
করতে থাকবে। অবশেষে সবাই আদম আলাইহিস সালাম এর কাছে এসে বসবে, আপনার বংশধরদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ আমি এর উপযুক্ত নই,
বরং তোমরা ইবরাহীমের কাছে যাও। কেননা তিনি আল্লাহর বন্ধু। সবাই
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসলে, তিনি বলবেনঃ আমি এর
যোগ্য নই, তবে তোমরা মূসা আলাইহিস সালাম এর কাছে যাও। কেননা
তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তখন সকলে তার কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এর
উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ঈসা আলাইহিস সালাম এর কাছে যাও। তিনি
আল্লাহ প্রদত্ত রুহ ও তাঁর কালিমা। এরপর তারা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে আসবে।
তিনি বলবেনঃ আমি এর যোগ্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলবঃ ‘আমিই এর জন্য, আমি যাচ্ছি। অনন্তর আমি আমার পরওয়ারদিগারের অনুমতি প্রার্থনা করব।
আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। আমি তাঁর সন্মুখে দাঁড়াব এবং এমন প্রশংসাসূচক বাক্যে তার
প্রশংসা করতে থাকব, যা তখনই আল্লাহ আমার প্রতি ইলহাম করবেন; এখন
আমি তা বর্ণনা করতে পারছি না।
এরপর আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমাকে বলা হবেঃ হে মুহাম্মাদ!
বলুন, আপনার কথা
শোনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা
হবে; শাফা’আত করুন, আপনার শাফা’আত গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলবঃ হে
পরওয়ারদিগার, ‘উাম্মাতী” ‘উম্মাতী’
(আমার উম্মাত, আমার উম্মাত)। এরপর আমাকে বলা হবেঃ চলূন, যার অন্তরে গম বা যবের
পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবেন তাকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনুন। আমি যাব এবং
তদনূসারে উদ্ধার করব।[12]
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসার পদ্ধতিসমূহ:
ভালোবাসার কিছু নিদর্শন
থাকে, যা দিয়ে ব্যক্তিকে চেনা যায়। প্রকৃতই যে মুসলমান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসবে, তা তার কথা কাজ ও জীবনধারার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হবে।
যার কর্মের মধ্যে এস সকল ইতিবাচক নিদর্শন থাকবে
না, তার ভালোবাসা মিথ্যা ও মেকী। যে সকল নিদর্শন থাকলে বুঝা যাবে যে, এস ব্যাক্তি
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে তা নিম্নরুপ:
১. সৃষ্টিজগতের সকলের
ভালোবাসার চেয়েও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসাকে অধিক
গুরুত্ব দেয়া।
২. মহানবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সুন্নাতকে মেনে চলা। তার কোন আদেশকে খাটো বা অবজ্ঞা না করা। চাই সে
সুন্নাতটি আমাদের দৃষ্টিতে ছোট হোক কিংবা বড় হোক। ইবাদাত বা আদাত হোক।
৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের অধ্যয়ন ও অনুসরণকে গুরুত্ব দেয়া এবং তার নির্দেশিত
হেদায়াতের পথে অবিচল থাকা।
৪. মহানবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্মরণকে মনের মধ্যে সদা জাগরুক রাখা এবং তার পবিত্র শানে
সালাম ও দরুদ পাঠ করা। যে সকল সময়ে নবীর শানে সালাত ও সালাম পড়া বাধ্যতামূলক তার
কয়েকটি হলো:
·
সালাতের মধ্যবর্তী ও শেষ
বৈঠকে বাধ্যতামূলক তাশাহুদ ও দুরুদ পড়ার মাধ্যমে
·
জানাজার সালাতে ২য়
তাকবীরের পর সালাত ও সালাম পড়া
·
জুমার খোতবা, দুই ঈদ ও
সালাতুল এস্তেসকার সময় সালাত ও সালাম পড়া
·
আজান ও ইকামাতের উত্তর
দেয়ার সময় সালাত ও সালাম পড়া
·
দোয়ার সময় সালাত ও সালাম
পড়া
·
মসজিদে প্রবেশ এবং মসজিদ
থেকে বের হওয়ার সময় সালাত ও সালাম পড়া
·
মহানবীর নাম উচ্চারিত হতে
শুনলে সালাত ও সালাম পড়া
৫. সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত, উলামায়ে
কেরাম, সালফে সালেহীন ও আইম্মায়ে মুজতাহেদীনদের ভালোবাসা, যারা নবীর সুন্নাতকে
ভালোবেসে সফলতা অর্জন করেছে।
হুব্বে রাসূল বনাম আমাদের সমাজের চিত্র
আমরা মুসলিম হিসেবে মহানবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসি। এতে কোন সন্দেহ নেই। কথায়
কথায় আমরা রাসূলের জন্য আমাদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠিত হই না। কিন্তু
বাস্তবে আমরা বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ কি প্রকৃত পক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসার যে মাত্রা বা পর্যায়ে উন্নীত হওয়া প্রয়োজন তা কি আমরা
করতে পারছি। অন্যকথায় কুরআন ও সুন্নায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে
ভালোবাসার যে স্তর বা প্রক্রিয়ার কথা বলা রয়েছে তা আমরা মেনে চলছি কি না? নতুবা
আমাদের সকল আমল বিফলে যাবে। উদাহরণস্বরুপ আমরা যদি কোন নারীকে ভালোবাসি তাহলে আমরা
তার জন্য কী কী করি। আমরা আমাদের সন্তানকে প্রচন্ডরকম ভালোবাসি।
আমরা
তাদের সুখের জন্য কী না করি। আমাদের অনুভূতি কেমন থাকে আমাদের প্রিয় বাবা-মা,
সন্তান-সন্ততি, খোলোয়াড় কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি। বিশ্বকাপ খেলার সময় অপরিচিত
দেশ, শুধু টিভিতে খেলা দেখে আমরা অনেকে সে দেশ বা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে এতোটাই ভালোবাসি
যে, আমাদের সন্তানরা ভিন্নদেশের পতাকা নিয়ে মাতামাতি করে। অচেনা খেলোয়াড়ের মত করে
হেয়ার কার্ট ঠিক করে। আপনার আমার অনেকে প্রিয় ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে ব্যবিচারে
লিপ্ত নায়ক নায়িকা নামে অভিহিত অনেক বেশ্যাদের অনুসরণ করে। তাদের মত পোশাক পরে।
তাদের কতজন সন্তান বিয়ের আগে আর কতজন সন্তান বিয়ের পরে জন্মেছে, তাদের নামসহ
মুখস্ত বলে দিতে পারে। এসবই সে ব্যাক্তির প্রতি ভালোবাসার বহিপ্রকাশ মাত্র।
আমরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে
ভালোবাসার দাবী করি। কিন্তু আমরা অনেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। সীরাতে রাসূল আমাদের কাছে অজানা। মহানবীর জীবন চরিত
না জেনে, তার আদর্শ অনুধাবন না করে, তার নির্দেশ না জানলে তার প্রতি ভালোবাসা
মূখের কথায় সীমিত থাকবে। আমাদের সন্তানেরা নবীর মত পোষাক পরার আকাঙ্খা করে না, চুল
রাখে না, খাবার খায় না। তারা হাসান, হোসেন, ফাতিমা, যায়েদ প্রমূখদের
জানে না। তাদের আদর্শ সিনেমার নায়ক –নায়িকা আর খেলোয়াড়?
আমাদের পরিবার যদি রাসূলের
পরিবারের মত না হয়, আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, বিচার, প্রশাসন, ব্যবসা,
অর্থনীতিসহ সকল বিষয়ে আমরা যদি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অনুসরণ
করে তার ভালোবাসা অর্জন করতে না পারি, তাহলে আমাদের সফলতা একেবারে অসম্ভব।
আল্লাহর নবীকে কষ্ট দেয়ার পরিণতি:
ভালোবাসা-এর বিপরীত শব্দ ঘৃণা বা অপছন্দ।
আমাদের কথা বা কাজ যেন এমন না হয়, যাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কষ্ট
পান। এটি আল্লাহর কাছে একেবারে অপছন্দনীয়। আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মাদ
মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়ার শাস্তি বা পরিণতি কী হতে
পারে, তা কুরআনুল কারীমের ১১১তম অধ্যায় সূরা লাহাবে স্পষ্ট করে বলে দেয়া আছে।
বর্ণিত আছে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বসাধারণের কাছে
দাওয়াত পেশ করার হুকুম দেয়া হলো এবং কুরআন মাজীদে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হলো: “সবার
আগে আপনার নিকট আত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখান।”[13] এ
নির্দেশ পাওয়ার পর সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘সাফা’
পাহাড়ে উঠে বুলন্দ আওয়াজে চিৎকার করে বললেন ‘ইয়া সাবাহআহু’ হায় , সকাল বেলার বিপদ’! আরবে এ ধরনের আওয়াজ এমন এক ব্যক্তি দিয়ে থাকে যে ভোর বেলার আলো
আঁধারীর মধ্যে কোন শত্রুদলকে নিজেদের গোত্রের ওপর আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসতে
দেখে থাকে। রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আওয়াজ
শুনে লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, কে আওয়াজ দিচ্ছে? বলা
হলো মুহাম্মাদ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আওয়াজ দিচ্ছেন।
একথা শুনে কুরাইশদের সমস্ত পরিবারের লোকেরা দৌড়ে গেলো তাঁর দিকে । যে নিজে আসতে
পারতো সে নিজে এসে গেলো এবং সে নিজে আসতে পারতো না সে তার একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে
দিল। সবাই পৌঁছে গেলে তিনি কুরাইশের প্রত্যেকটি পরিবারের নাম নিয়ে ডেকে ডেকে বললেন
: হে বনী হাশেম! হে বনী আবদুল মুত্তালিব! হে বনী ফেহর! হে বনী উমুক! হে বনী উমুক!
যদি আমি তোমাদের এ কথা বলি, এ পাহাড়ের পেছনে একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত
হয়ে রয়েছে তোমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য, তাহলে আমার কথা কি তোমরা সত্য বলে মেনে
নেবে?
লোকেরা জবাব দিল, হ্যাঁ, আমরা কখনো আপনার
মুখে মিথ্যা কথা শুনিনি। একথা শুনে তিনি বললেন: তাহলে আমি তোমাদের সতর্ক করে
দিচ্ছি , আগামীতে কঠিন আযাব আসছে । একথায় অন্যকেউ বলার আগে তাঁর
নিজের চাচা আবু লাহাব বললো: “ তোমার সর্বনাশ হোক , তুমি
কি এ জন্য আমাদের ডেকেছিলে?” অন্য একটি হাদীসে একথাও বলা হয়েছে, সে
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে ছুঁড়ে মারার জন্য একটি পাথর
উঠিয়েছিল।[14] তার
প্রসংগে কুরআনুল কারীমে নাজিল হয়েছে:
“ভেঙে গেছে আবু লাহাবের হাত
এবং ব্যর্থ হয়েছে সে, তার ধন-সম্পদ এবং যা কিছু সে উপার্জন করেছে তা তার কোন কাজে
লাগেনি। অবশ্যই সেই
লেলিহান আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, এবং (তার সাথে) তার স্ত্রীও, লাগানো
ভাঙানো চোগলখুরী করে বেড়ানো যার কাজ, তার গলায় থাকবে খেজুর ডালের
আঁশের পাকানো শক্ত রশি।”
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা একজন ঈমানদারের ঈমানের পরিমাপক। আমাদের ঈমান শুধু তখনই সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে যখন নবীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা এ দুনিয়ার সকল কিছু, এমনকি আমাদের নিজ জীবন অপেক্ষা অধিক হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা তখনই সঠিক বলে প্রমাণিত হবে, যখন আমরা তার নিয়ে আসা জীবনাদর্শ ইসলামকে মেনে চলব। কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীসকে মাপকাঠি ধরে এ নশ্বর ভূবনে আমাদের ক্ষীণ পথচলা চালু রাখবো। আমাদের মনগড়া দল, গোত্র ও ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে নবী জীবনের আদর্শকে ধারণ করতে পারলেই হুব্বে রাসুল বা মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার ঈমানী দায়িত্ব সম্পন্ন হবে।
[1]. আল কুরআনুল কারীম, সূরা মায়েদাহ, ৫:৩
[2]. টীকা
নং ১০৭, তাফহীমুল কুরআন, http://islam.net.bd/tafheem/
[3]. সহীহ বুখারী
[4]. সহীহ বুখারী, হাদীস নং১৫, সহীহ মুসলিম,
হাদীস নং ১৭৮
[5]. সূরা আহযবা, ৩৩:২১
[6]
সিরাতে ইবনে
হিশাম
[7]
আর রাহিকুল মাখতুম
[8]
সিরাতে ইবনে হিশাম
[9] সহীহ বুখারী
[10] আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া
[12]
সহীহ মুসলিম (ইস: ফাউ:),
হাদীস নং -৩৭৫
[13]. আল কুরআনুল কারীম, সূরা আশ
শুয়ারা ২৬:২১৪
[14].
মুসনাদে আহমাদ , বুখারী , মুসলিম
, তিরমিযী , ইবনে জারীর ইত্যাদি, উদ্বৃত,
তাফহীমুল কুরআন, http://islam.net.bd/tafheem/
Comments
Post a Comment