লাইলাতুল ক্বাদর এ পরিচয় ও গুরত্ব


লাইলাতুল ক্বাদর পরিচয় গুরত্ব

কাজী মুহাম্মদ ওমর ফারুক পি এইচ ডি
executive Director
Dhaka Sirat Study Center
Email: omortdu@gmail.com



ভূমিকা
লাইলাতুল ক্বাদর একটি আরবী শব্দ মূল আরবী শব্দদ্বয় লাইলাতুন এবং আলক্বাদরএর সমন্বয়ে শব্দটির সৃষ্টি লাইলাতুন অর্থ রাত আর আলক্বাদরশব্দের অর্থ হলো ভাগ্য আমরা সাধারণত: বাংলা ভাষায় বলতে লেখতে অনেকেই এটির জন্য লাইলাতুল ক্বাদর এর পরিবর্তে লাইলাতুল ক্বদর শব্দ ব্যবহার করে থাকে বিশেষ্য হিসেবে এটির আরবী উচ্চারণের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ক্বাদর, ক্বদর নয়আবার ফার্সী ভাষার শব বা রাত্রি শব্দ থেকে শব্দের উচ্চারণে ভিত্তিতে শবে ক্বাদরও বলা হয়ফলে লাইলাতুল ক্বাদরবা শবে ক্বাদর এর অর্থ দাঁড়ায় তকদীরের রাত বা ভাগ্য রজনী ঈমানের একটি মূল বিষয় হচ্ছে ওয়ালকাদরে খাইরিহি ওয়া শাররিহি- বা ভাগ্যের ভালো মন্দ-এর উপর বিশ্বাস রাখা সেখান থেকে আমরা কাদর বা ভাগ্য বিষয়ে জেনে আসছিউম্মাতে মোহাম্মদী এর জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে এক অনন্য তোহফা হচ্ছে মাহে রামাদান আর লাইলাতুল ক্বাদর হচ্ছে মহা মূল্যবান অমীয় সম্পদ যার মূল্য কোটি বিলিয়ন ট্রিলিয়ন স্বর্ণ মুদ্রা দিয়েও কেনা সম্ভব নয় কিন্তু আফসোসের বিষয় হতভাগা আর দূর্ভাগা মুসলিম মিল্লাত হেলায় খেলায় আর অযত্ন অবহেলায় এ সম্মাণিত, গৌরবান্বিত, মর্যাদাপূর্ণ এ বরকতময় রাজনীকে নানান ছুতায় শয়তানের মায়াবী জালে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের কল্যানের কাজে ব্যবহার করতে ব্যার্থ হচ্ছে আলোচ্য নিবন্ধে আমরা প্রথমত: লাইলাতুল ক্বাদর এর পরিচয় তুলে ধরবো, দ্বিতীয়ত: চেষ্টা করবো লাইলাতুল ক্বাদর এর সঠিক সময় তারিখ কোনটি তা কুরআনও হাদীসে রাসূল এর আলোকে তুলে ধরতে এবং রিস্ক এনালাইসিস করে প্রমাণ করতে চেষ্টা করবো যে, বিরোধপূর্ণ আলোচনায় কোন তারিখটি অধিক সঠিক হতে পারে এবং সবশেষে এ রাতের ফজিলাত এবং করনীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সাম্যক আলোচনার মাধ্যমে লেখণীর পরিসমাপ্তি টানা হবে ইনশাআল্লাহ
 লাইলাতুল ক্বাদর সম্পর্কে কুরআনুল কারীমের বক্তব্য
(১) আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি লাইলাতুল ক্বাদরে।
(২) আপনি কি লাইলাতুল ক্বাদর সম্বন্ধে জানেন?
(৩)লাইলাতুল ক্বাদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
(৪) এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরঈল) অবর্তীণ হন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
(৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যহত থাকে। (সূরা আলক্বাদর, ৯৭:-৫)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ {1}
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ {2}
 لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ {3}
  تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ {4}
سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ  {5}

নিশ্চয় আমি ইহা (কুরআন)কে অবর্তীণ করেছি একটি বরকতময় রাতে। (সূরা দুখান, ৪৪: ৩) 
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ




ক্বাদর-এর রাত্র কোনটি
সাধারণত এবং বিভিন্ন হাদীসের বরাতে আমাদের দেশসহ অনেক দেশেই ২৭ রমদানের রাতকেই লাইলাতুল ক্বাদর হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সে বিশ্বাসে অনেকে আলোকসজ্জা করেন দলবেধে মসজিদসমূহে ইবাদাত এবং বেতার টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয় কোন হাদীসেই চূড়ান্তভাবে রাতের জন্য একটি তারিখকে নির্দিষ্টি করে দেয়া হয় নি এতবড় ফজিলাতপূর্ণ রাতের ব্যাপারে নির্দিষ্ট একটি দিন তারিখের পরিবর্তে রমাদান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোকে মনোনীত করা হয়েছে রমাদানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলির মধ্যকার যে কোন একটি রাত লাইলাতুল ক্বাদরের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সে হিসেবে ২৭ রমাদানের রাত বেজাড় হিসেবে লাইলাতুল ক্বাদর-এর রাত হতে পারে, আবার নাও হতে পারে
ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবী রামাদানের শেষ পাঁচ বেজোড় রাত্রিতে স্বপ্ন মারফত শবে ক্বাদর হতে দেখেছেন। সাহাবীদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী বলেন: আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাত্রিতে। অত:এব কেউ চাইলে শেষ সাত রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে পারে।[1] এ মর্মে আরও অনেক হাদীস রয়েছে।
কোন কোন সালাফে-সালেহীন সাতাইশ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবীগণের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কাব (রা:) এর মতামত থেকে এটাই বুঝা যায়। কিন্তু তাদের কেহই নিশ্চিত করে বলেননি। সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
কিন্তু নাবী থেকে এভাবে নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর হওয়ার কোন হাদীস নাই। তাই উপরোক্ত সাহবীদের কথার উপর ভিত্তি করে বড় জোর সাতাইশে রাতে শবে কদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সঠিক কথা হল, শবে কদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।
সুতরাং শুধু সাতাইশ তারিখ নয় বরং কোন ব্যক্তি যদি রামাদানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে। কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা বোকামী ছাড়া কিছুই নয়। বিশুদ্ধ মতানুযায়ী উম্মুল মোমেনীন আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বিশ্বনাবী বলেন,
« تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِى الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
 তোমরা লাইলাতুল ক্বাদরকে রামদানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতে তালাশ কর।[2]
ক্বাদর-এর তারিখ সংক্রান্ত সমস্যা
·         গ্রুপ: ২৭ শে রমাদানের রাত
·         গ্রুপ: রামদানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে
ক্বাদর-এর রাত্র /তারিখ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান:
রিস্ক এনালাইসিস বা সম্ভাব্য বিপদসমূহ পর্যালোচনা করলে আমরা ক্বাদর-এর রাত্র /তারিখ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারব
এক. গ্রুপ এর বক্তব্য অনুযায়ী আমরা যদি ২৭ শে রমাদানের রাতকে লাইলাতুল ক্বাদর হিসেবে পালন করে সারা রাত ইবাদাত বন্দেগী করে হাজার মাসের চেয়েও বেশী উত্তম সময়কে পাওয়ার চেষ্টা করি তাহলে আমরা যে সকল সমস্যায় পড়তে পারি তা হলো:
দুই: গ্রুপ এর মতানুযায়ী রামদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল ক্বাদর তালাশ করার ফলে কোন সমস্যায় পড়তে হবে না, যেমন:

. সহীহ হাদীসের আলোকে রামাদানের শেষ দশ দিনের বেজাড় রাত্রিসমূহে লাইলাতুল ক্বাদর তালাশ করার নাবী এর হাদীসের বরখেলাপ আমল করার দরুন গুনাহগার হবো
. ২৭ তারিখের রাতও লাইলাতুল ক্বাদর-এর অন্তর্ভূক্ত  থাকবে এতে কোন হাদীসেরই বরখেলাফ আমলের কোন সুযোগ নেই ফলে গুনাহগার হবার সম্ভাবনাও থাকবে না
. যেহেতু ২৭ তারিখ নিশ্চিত নয়; কোন কারণে উক্ত তারিখে লাইলাতুল ক্বাদর না হলে আপনি এমন নিশ্চিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে হতভাগাদের দলভূক্ত হবেন
. শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিসমূহের যে কোন রাত লাইলাতুল ক্বাদর হবার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকায় আপনার কোন রিস্ক নেই
. ২৭ রমাদানের রাতের পর আরো বেজোড় রাত রয়েছে যাতে লাইলাতুল ক্বাদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অথচ ২৭ তারিখ লাইলাতুল ক্বাদর ভেবে ইবাদাত করার পর আপনি রামাদনের পরবর্তী সময়গুলোর প্রতি কম গুরুত্ব দিতে থাকবেন, যা মোটেই একজন মুমিনের কাম্য নয়
.আপনি রামাদানের শেষ রাত পর্যন্ত ইবাদাত করবেন ফলে আপনার আমলনামা আরো উচ্চকিত হবার সম্ভাবান থাকে এমনকি লাইলাতুল ক্বাদর পাওয়ারও সুযোগ থাকে
. যেহেতু লাইলাতুল ক্বাদর-এর জন্য ২৭তম রজনীকেই আপনি মেনে নিচ্ছেন, ফলে আপনি লাইলাতুল ক্বাদর তালাশের জন্য ই'তেকাফে বসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অথচ মহানাবী নিয়মিত ইতেকাফ পালন করেছিলেন
. শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিসমূহের কারণে লাইলাতুল ক্বাদর পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে রাসূল আজীবন ই'তেকাফের যে আমল করেছেন, আপনিও তা করতে পারবেন। ফলে আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগটি লাভ করতে পারবেন।
. নির্দিষ্ট দিনে লাইলাতুল ক্বাদর পালন করতে গিয়ে অনুষ্ঠান সর্বস্ব হয় এবং ইবাতের পরিবর্তে হিসাব নিকাশ ও খাবার দাবারের আয়োজনে সময় নষ্ট হবার সুযোগ থাকে
. শেষ দশকের মধ্যে হওয়াতে এ ধরণের আনুষ্ঠানিকতার কোন প্রয়োজন পড়ে না, ফলে ইবাদাতের মনোযোগ অক্ষুন্ন থাকবে
উল্লেখিত আলোচনার মাধ্যমে এ কথা ষ্পষ্ট প্রমাণিত ও প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ২৭শে রামাদান লাইলাতুল ক্বাদর পালন করার মাধ্যমে লাভের চেয়ে ঝুঁকি ও ক্ষতির সম্ভাবনার পরিমান বেশী রয়েছে অপর দিকে রামাদান মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিসমূহে লাইলাতুল ক্বাদর পালন করার মধ্যে কোন ঝুঁকি বা ক্ষতির সম্ভাবনা নেই সুতরাং বুদ্ধিমান ঈমানদারের জন্য উচিত হবে ঝুঁকি মুক্ত থেকে ইবাদাতে আত্মনিয়োগ করা
লাইলাতুল ক্বাদর-এর ফজিলাত:
রাতে-
1. ঈমানদার ইবাদাতকারীকে মাফ করে দেয়া হয় আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী বলেনযে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে ক্বাদর রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ মার্জনা করে দেয়া হয়।[3] 
2.  আল্লাহ  সম্পূর্ণ ক্বুরআনুল কারীমকে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন আরেকটি মত অনুযায়ী রাতেই ক্বুরআনুল কারীম নাযিল শুরু হয়, পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৩ বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ঘটনা  অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসূল  -এর উপর সমগ্র ক্বুরানুল কারীম অবতীর্ণ হয়
3.   এক রজনীর ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তমযার পরিমান দাড়ায় প্রায় ৮৩ বরে মাসকোন লোক রাত্রে ইবাদাত করতে পারলে সে ৮৩ বছর মাসেরও বেশী সময় ধরে ক্রমাগত ইবাদাত করার সমান সওয়াব লাভ করতে সক্ষম হবে
4.    অগনিত ফেরেস্তা আল্লাহ  -এর নির্দেশে জমিনে নেমে আসে এবং তারা মানুষের কল্যানে দুআ করতে থাকে
5.   শান্তি বর্ষণের রাত।  রাতে ইবাদত গুজার বান্দাদেরকে ফেরেশতারা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তিরবাণী শুনায়
6.   ফাযীলত বর্ণনা করে  রাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা আলক্বাদরঅন্য কোন রাতকে কেন্দ্র করে ক্বুরআনুল কারীমে অন্য কোন আলাদা সূরাহ নাযিল করা হয় নি
7.      নফল সালাত আদায় করলে মুমিনদের অতীতের সগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী বলেন,  مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه
 যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে ক্বাদর রাতে সালাত আদায় করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মার্জনা করে দেয়া হবে[4]
লাইলাতুল ক্বাদর-করণীয় কাজসমূহ
. শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বাদর তালাশের জন্য নিজে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ
রামাযানের শেষ দশক প্রবেশ করলে রাসূল  কোমর বেঁধে নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন। কোমর বাঁধার অর্থ হল: পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে চেষ্টা-সাধনায় লিপ্ত হওয়া।[5]
. রাসূল  রামাযানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না:
আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَجْتَهِدُ فِى الْعَشْرِ الأَوَاخِرمَا لاَ يَجْتَهِدُ فِى غَيْرِه
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।[6]
. লাইলাতুল ক্বাদরে সঠিকভাবে ইবাদাত করার জন্য ইতেকাফ করা জরুরী কেননা রাসূল ইতেকাফ-এর আমলটি গুরুত্ব সহকারে করেছেন আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। আল্লাহ তায়ালা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মৃত্যু দেয়া পর্যন্ত রামাযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।[7]
আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসূল প্রতি রামাযানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর সফরে যাওয়ায় ইতিকাফ করতে পারেন নি। তাই যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন সে বছর বিশ দিন ইতিকাফ করেন ।[8]
. বেশী বেশী দুআ করা,তন্মধ্যে সেই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী মা আয়েশা (রা:)-কে শিখিয়েছিলেন। মা আয়েশা নবী কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ করবো? তিনি বলেনঃ বলবেاللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফাফু আন্নী) অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর[9]



. এছাড়া বান্দা পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় দুআ করবে। সে গুলো প্রমাণিত আরবী ভাষায় দুআ হোক কিংবা নিজ ভাষায় হোক। এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দুআ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দুআ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এতে বান্দার মুখাপেক্ষিতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।
. লাইলাতুল ক্বাদর ইবাদাত করে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে যান ফলে সে দিনের ফজরের ফরজ সালাত জামাতের সাথে আদায় করতে পারেন না, আবার অনেকে রাত্রি জাগরণের কারণে দিনের বেলায় গভীর ঘুমের হেতু সেদিনের জোহরের সালাত বাজামাত আদায়ে ব্যার্থ হন মনে রাখতে হবে, ফরজ সালাতের সমান কোন নফল ইবাদাত নয় ফলে ঐ রাত্রিমে আমাদের জামাতের সাথে ফরজ সালাতের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে
. বাংলাদেশের অনেক মসজিদে এ রাতের মাধ্যমে খতমে তারাবীর সালাত ব্যবস্থা করা করা হয় এ উপলক্ষ্যে অর্থ কালেকশন, চাঁদা তোলা, মিষ্টান্ন বা খাবার বিতরন ও বন্টন, আলোচনা সভা, মাহফিল ইত্যাদি করা হয় যাতে ইবাদাতের পরিবর্তে কিছু লোকের ব্যবসা বানিজ্য ও জমজমাট খাবাবের উৎসব পালিত হয় এত ইবাদাতের পরিবেশ বিনষ্ট হয়এসব বাদ দিয়ে বরং এ রাতে শুধু ইবাদাতে নিমগ্ন হওয়া উচিত
পরিসমাপ্তি
আলোচনার সমাপ্তিতে পাঠকদের কাছে আরজ, আসুন আমরা ব্যাক্তিগত আমলে এগিয়ে যেতে লাইলাতুল ক্বাদর বা ক্বাদর রাতের ইবাতের ব্যাপারে আরো বেশী যত্নবান হই বিশেষত মনে রাখতে হবে যে, এ ক্ষেত্রে সফলতা লাভের জন্য ইতেকাফের কোন বিকল্প নেই সর্বশেষে রাসুল এবং তার আহলে বাইতের প্রতি অগণিত দুরদ ও সালাম এবং আল্লাহ  এর রাহমাত কামনা করে আপাতত বিদায় নিচ্ছি হে আল্লাহ  আমাদের কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতুল ফেরদাউসের বাসিন্দা বানিয়ে নিন আমিন

আরো পড়ুন: ইসলামে দান এর গুরুত্বআল্লাহর নির্দেশ এবং উপযুক্ত খাত!
আরো পড়ুন: What is Dhaka Sirat Study Center
আরো পড়ুন: Lessons from the Prophetic Life
আরো পড়ুন: সাদাকা বা দানের অসাধারণ ১১ টি উপকারিতা
আরো পড়ুন: দান করার ফজিলাত
আরো পড়ুন:
আরো পড়ুন:
আরো পড়ুন:
আরো পড়ুন:
আরো পড়ুন:


[1] সহীহ বুখারী ও মুসলিম
[2]. সহীহ বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি, আহমাদ
[3]. সহীহ বুখারী ও মুসলিম
[4] সহীহুল বুখারী ও মুসলিম
[5] সহীহুল বুখারী ও  মুসলিম
[6] সহীহ মুসলিম
[7] সহীহুল বুখারী
[8] মুসনাদে আহমাদ, সুনান আবু দাউদ
[9] মুসনাদে আহমাদ

Comments

Popular posts from this blog

শুকনো এ মরুভূমিতে দাও তোমার প্রেমের জল

Socio-cultural Condition of Ayyam-i- Jahilia

ভাগ্যবান শহীদ হানজালা রাদিয়াল্লআহু আনহু