ভাগ্যবান শহীদ হানজালা রাদিয়াল্লআহু আনহু

উহুদের যুদ্ধ ও ভাগ্যবান শহীদ হানজালা 

রাদিয়াল্লআহু আনহু 


উহুদের যুদ্ধ।
ভীষন রকমের যুদ্ধ হয়। 
মক্কার মূর্তিপূজক মোশরেকরা বদরের প্রতিশোধ নিতে এ যুদ্ধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে সমবেত হয়।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-ও এক হাজার অনুসারীদের নিয়ে মদীনারে নিকটবর্তী ওহুদের প্রান্তরে সমবেত হন।

মুসলিম বাহিনীর ৭০ জন শহীদ হন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিজেও এ যুদ্ধে মারাত্নকভাবে আহত হন। একসাথে এতসংখ্যক শহীদের লাশ দেখে মহানবী ও সাহাবীরা বিচলিত হলেও তাদের জানাযা ও সম্মানজনক কবরস্থ  করার জন্য লাশগুলোকে এক জায়গায় এনে রাখার নির্দেশ দিলেন।  

নবীজি নিজে গুনে গুনে দেখলেন যে, ৬৮ টা লাশ রয়েছে। ২ টা লাশ নাই। হিসেব করে দেখা গেল না পাওয়া লাশ দুটোর একজন হলো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর দুধভাই ও আপন চাচা রায়িসুশ শুহাদা, বীর সেনানী হযরত হামজা রাদিয়াল্লআহু আনহু। আরেকজন হলেন  প্হারিয় সাহাবী ভাগ্যবান শহীদ হযরত হানজালা রাদিয়াল্লআহু আনহু। 
কী হলো দুজন সম্মাণিত সাহাবীর লাশের? 
জীবিত মুসলিমের যেমন সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ দিয়েছেন, মৃত মুসলিমের লাশের মর্যাদাও কোনভাবে কম নয়।
ফলে অস্থির হয়ে পড়েন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। 
সব সাহাবাদের পাঠালেন লাশ খোঁজার জন্য।
হঠাৎ বোরখা পরা এক মহিলা এসে দাঁড়ালেন নবীজির কাছে। 
নবীজি উনাকে চিনলেন না। 
মহিলা বললেন,
ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম, 
গতকাল আপনি একটা বিয়ে পড়িয়েছিলেন, মনে আছে? 
নবীজি বলেন: হ্যাঁ, আমি তো হানজালার বিয়ে পড়িয়েছিলাম। যার বিয়ের খুশিতে আমি খুরমা খেঁজুর ছিটিয়ে ছিলাম। 
উক্ত মহিলা সাহাবী বললেন: ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম, আমার হাতটা দেখেন। হাতের মেহেদী এখনও শুকায় নি। কাল বিকেলে বিয়ে হয়েছিলো আর রাতেই উহুদের যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেছেন হানজালা। বাসর রাতে উনার সাথে আমার ভালোভাবে পরিচয়ই হয় নি। যাওয়ার আগে শুধু বলে গেছেন 
"যদি দেখা হয় তাহলে দেখা হবে দুনিয়ায়, আর যদি শহীদ হয়ে যাই তাহলে দেখা হবে জান্নাতে"। 
মহিলা বললেন ইয়া রাসুল্লাহ যাওয়ার আগে আমার কপালে একটা চুম্মন করে গেছেন। লজ্জায় বলতেও পারি নাই যে, তার উপর গোসল ফরজ হয়েছিল। নবীজি কাঁদতে লাগলেন। 
মহিলা বললেন, 
ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, শহীদদের তো আপনি গোসল দেন না, আমার স্বামীকে আপনি একটু গোসল দেয়ার ব্যবস্থা করলেন।
নবীজি সম্মতি প্রকাশ করার পর একজন সাহাবি দৌড়ে এসে বলল, 
ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। হানজালা কে পাওয়া গেছে।
সবাই দৌড়ে গেলেন। যার লাশ এতক্ষণ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। হঠাৎ কোথা থেকে আসলো এ লাশ।
সকলে গিয়ে দেখলেন, সাদা কাফনের ভিতর লাশের মাথায় পানি। 
নবীজি মাথা হাতায়ে দিলেন। জিবরাঈল এসে বলল: 
ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হানজালার কোরবানিতে আল্লাহ্ পাক এতটাই খুশি হয়েছে যে আমার বাহিনীকে আদেশ করলেন উনাকে নিয়ে আসতে। ইয়া রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমরা ফেরেশতারা উনাকে তৃতীয় আসমানে এনে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করিয়েছি এবং উনার শরীরে থেকে যে সুগন্ধ পাচ্ছেন, এটা আল্লাহ্ পাকের বিশেষ খুসবু মিশক আম্বর আতরের ঘ্রাণ । আমরাই উনাকে কাফনের কাপড়ে আচ্ছাদিত করেছি ।......
সুবহানআল্লাহ !!! আল্লাহ্ উনার প্রিয় মানুষকে কি পরিমাণ ভালবাসেন, কি পরিমাণ সম্মানিত করেন তা আমাদের পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব নয়।

Comments

Popular posts from this blog

শুকনো এ মরুভূমিতে দাও তোমার প্রেমের জল

Socio-cultural Condition of Ayyam-i- Jahilia