ইসলামে দান এর গুরুত্ব
ইসলামে দান এর গুরুত্ব, আল্লাহর নির্দেশ এবং উপযুক্ত খাত!
রচনা ও সম্পাদনায়:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ قَبْلَ أَنْ تَمُوتُوا وَبَادِرُوا بِالأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ قَبْلَ أَنْ تُشْغَلُوا وَصِلُوا الَّذِي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رَبِّكُمْ بِكَثْرَةِ ذِكْرِكُمْ لَهُ وَكَثْرَةِ الصَّدَقَةِ فِي السِّرِّ وَالْعَلاَنِيَةِ تُرْزَقُوا وَتُنْصَرُوا وَتُجْبَرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْكُمُ الْجُمُعَةَ فِي مَقَامِي هَذَا فِي يَوْمِي هَذَا فِي شَهْرِي هَذَا مِنْ عَامِي هَذَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ تَرَكَهَا فِي حَيَاتِي أَوْ بَعْدِي وَلَهُ إِمَامٌ عَادِلٌ أَوْ جَائِرٌ اسْتِخْفَافًا بِهَا أَوْ جُحُودًا بِهَا فَلاَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ وَلاَ بَارَكَ لَهُ فِي أَمْرِهِ أَلاَ وَلاَ صَلاَةَ لَهُ وَلاَ زَكَاةَ لَهُ وَلاَ حَجَّ لَهُ وَلاَ صَوْمَ لَهُ وَلاَ بِرَّ لَهُ حَتَّى يَتُوبَ فَمَنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَلاَ لاَ تَؤُمَّنَّ امْرَأَةٌ رَجُلاً وَلاَ يَؤُمَّنَّ أَعْرَابِيٌّ مُهَاجِرًا وَلاَ يَؤُمَّ فَاجِرٌ مُؤْمِنًا إِلاَّ أَنْ يَقْهَرَهُ بِسُلْطَانٍ يَخَافُ سَيْفَهُ وَسَوْطَهُ "
জাবের
ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)
থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।
তিনি বলেনঃ হে মানবমন্ডলী!
তোমরা
মরার পূর্বেই আল্লাহ্র নিকট
তওবা করো এবং কর্মব্যস্ত হয়ে
পড়ার পূর্বেই সৎ কাজের দিকে
দ্রুত ধাবিত হও। তাঁর অধিক
যিকরের মাধ্যমে তোমাদের রবের
সাথে তোমাদের সম্পর্ক স্থাপন
করো এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে
অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত
করো,
এজন্য
তোমাদের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া
হবে,
সাহায্য
করা হবে এবং তোমাদের অবস্থার
সংশোধন করা হবে। তোমরা জেনে
রাখো,
নিশ্চয়
আল্লাহ তাআলা আমার এই স্থানে
আমার এই দিনে,
আমার
এই মাসে এবং আমার এই বছরে
তোমাদের উপর ক্বিয়ামাতের দিন
পর্যন্ত জুমুআহর সালাত
(নামায/নামাজ)
ফরয
করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আমার
জীবদ্দশায় বা আমার ইন্তেকালের
পরে,
ন্যায়পরায়ণ
অথবা যালেম শাসক থাকা সত্ত্বেও
জুমুআহর সালাত (নামায/নামাজ)
তুচ্ছ
মনে করে বা অস্বীকার করে তা
বর্জন করবে,
আল্লাহ
তার বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রে
গুছিয়ে দিবেন না এবং তার কাজে
বরকত দান করবেন না। সাবধান!
তার
সালাত (নামায/নামাজ),
যাকাত,
হাজ্জ
(হজ্জ),
সাওম
(রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম)
এবং
অন্য কোন নেক আমাল গ্রহণ করা
হবে না,
যতক্ষণ
না সে তওবা করে। যে ব্যক্তি
তওবা করে,
আল্লাহ
তাআলা তার তওবা কবূল করেন।
সাবধান!
নারী
পুরুষের,
বেদুইন
মুহাজিরের এবং পাপাচারী মুমিন
ব্যক্তির ইমামতি করবে না।
তবে স্বৈরাচারী শাসক তাকে
বাধ্য করলে এবং তার তরবারি ও
চাবুকের ভয় থাকলে স্বতন্ত্র
কথা। সুনানে
ইবনে মাজাহ1
দানের
করেণে সম্পদ বৃদ্ধি পায়
দানের
করেণে সম্পদ বৃদ্ধি পায়,
মহাগ্রন্থ
আলকুরআনে আল্লাহ বলেন,
مَّثَلُ
الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ
فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ
أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ
سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّهُ
يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ
وَاسِعٌ
عَلِيمٌ
অতপর
যারা আল্লাহর রাস্তায় স্বীয়
ধন-সম্পদ
ব্যয় (দান)
করে,
তাদের
উপমা-
যেমন
একটি শস্য বীজ,
তা
থেকে উৎপন্ন হলো সাতটি শীষ,
প্রত্যেকটি
শীষে (উৎপন্ন
হলো)
একশত
শস্য দানা। এবং আল্লাহ যাকে
ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে
দেন,
বস্তুতঃ
আল্লাহ মহান দাতা,
সর্বজ্ঞ।2
“হে
মু’মিনগণ তোমাদের ধন-সম্পদ
ও সন্তান-সন্তুতি
যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্বরণ
থেকে গাফেল না করে। যারা এ
কারণে গাফেল হয়,
তারাই
তো ক্ষতিগ্রস্থ। (সুতরাং)
আমি
তোমাদেরকে যা দিয়েছি ,
তা
থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয়
কর (আল্লাহর
রাস্তায় বেশি বেশি দান কর)।(সূরা-
আল,
মুনাফিকুন
৯ ও ১০ এর অংশ বিশেষ)
"আল্লাহর
রাস্তায় দান না করে সম্পদ
জমাকারীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি"
সম্পর্কে
আল্লাহ বলেন,
أَيُّهَا
الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ
الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ
أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ
وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۗ
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ
وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي
سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ
أَلِيمٍ﴾
৩৪)
হে
ঈমানদারগণ!
এ
আহলে কিতাবদের অধিকাংশ আলেম
ও দরবেশের অবস্থা হচ্ছে এই
যে,
তারা
মানুষের ধন -সম্পদ
অন্যায় পদ্ধতিতে খায়,
এবং
তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে
ফিরিয়ে রাখে ৷ যারা
সোনা রূপা জমা করে রাখে এবং
তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না
তাদেরকে যন্ত্রনাময় আযাবের
সুখবর দাও৷
يَوْمَ
يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ
فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ
وَظُهُورُهُمْ هَٰذَا مَا كَنَزْتُمْ
لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ
تَكْنِزُونَ
৩৫)
একদিন
আসবে যখন এ সোনা ও রূপাকে
জাহান্নামের আগুণে উত্তপ্ত
করা হবে,
অতপর
তারই সাহায্যে তাদের কপালে,
পার্শ্বদেশে
ও পিঠে দাগ দেয়া হবে-
এ
সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের
জন্য জমা করেছিলে৷ নাও,
এখন
তোমাদের জমা করা সম্পদের
স্বাদ গ্রহণ কর।3
দান
না করলে সম্পদ সাপ হয়ে আক্রমণ
করবে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ
يَعْنِي بِشِدْقَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلاَ {لاَ يَحْسِبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ} الآيَ
আবূ
হুরাইরাহ্ (রাঃ)
থেকে
বর্ণিত। তিনি বলেন,
আল্লাহর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকে
আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন,
কিন্তু
সে এর যাকাত আদায় করেনি,
ক্বিয়ামাতের
দিন তার সম্পদকে টেকো (বিষের
তীব্রতার কারণে)
মাথা
বিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি
দান করে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া
হবে। সাপটি তার মুখের দু’পার্শ্ব
কামড়ে ধরে বলবে,
আমি
তোমার সম্পদ,
আমি
তোমার জমাকৃত মাল। অতঃপর
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত
করেন :
{وَلَا
يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ
بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
هُوَ خَيْرًا لَّهُم بَلْ هُو شَرٌّلَّهُمْ
سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ
الْقِيَامَةِ وَلِلَّهِ مِيرَاثُ
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ
بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ-
‘‘আল্লাহ
যাদেরকে সম্পদশালী করেছেন
অথচ তারা সে সম্পদ নিয়ে কার্পণ্য
করছে,
তাদের
ধারণা করা উচিত নয় যে,
সেই
সম্পদ তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে
আনবে,
বরং
তা তাদের জন্য অকল্যাণকর হবে।
অচিরেই ক্বিয়ামাত দিবসে,
যা
নিয়ে কার্পণ্য করছে তা দিয়ে
তাদের গলদেশ শৃক্মখলাবদ্ধ
করা হবে।” (সূরাহ
আলে
‘ইমরান,
৩:১৮০)।4
যাকাত
এবং সকল প্রকার দানের উপযুক্ত
খাত সমূহ:
আলকুরআনের
সূরা তওবায় (৬০
নং আয়াত)
আল্লাহ
বলেন,
إِنَّمَا
الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ
وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ
قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ
وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ للَّهِ
وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ
اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
সাদাকাত
বা যাকাত কেবল-
(১)-ফকীর (সহায় সম্বলহীন গরীব যারা অন্যের ধারস্থ)
(১)-ফকীর (সহায় সম্বলহীন গরীব যারা অন্যের ধারস্থ)
২)-মিসকীন
(যারা
একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির
জন্য সকল মানুষের কল্যাণে
আল্লাহর নির্শিত ও তাঁরই রাসূল
(সাঃ)
প্রর্শিত
পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েমের কাজে
নিয়োজিত কিন্তু অভাবগ্রস্থ
থাকা সত্যেও তারা কারো কাছে
হাত পাতে না,
বা
করুনা চাহে না)
৩)-যাকাত
বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের
(একমাত্র
আল্লাহর সার্বভৌমত্বের
ভিত্তিতে নেতৃত্বদানকারী
নেতার পরিচালনায়-যাকাতের
অর্থ আদায়,
সংরক্ষন
ও যথাপযুক্ত খাতে বন্টন কাজে
নিয়োজিত শ্রমিকদের)
প্রয়োজনীয়
বেতন ভাতা প্রদান।
৪)-মুয়াল্লাফাতে
কুলুব (যাদের
মন জয় করা আবশ্যক)
৫)-
দাস
মুক্ত করার জন্য।
৬)-ঋণ
পরিশোধ (ঋণগ্রস্থদের
ঋণ পরিশোধে)
৭)-
আল্লাহর
রাস্তায় (জাতি-ধর্ম,
বর্ণ
নির্বিশেষে সকল মানুষের
সার্বিক কল্যাণে আল্লাহর
নির্দেশিত এবং তাঁরই রাসূল
হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)
এর
প্রদর্শিত শান্তিপূর্ণ
পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে
ইসলাম কায়েমের-খেলাফত
কায়েমের চূড়ান্ত প্রচেষ্ঠার
আন্দোলনে)
ব্যায়
করা।
(৮)-মূসাফির (যে সফরে গিয়ে অভাবে পতিত হয়েছে) উপরউল্ল্যেখিত ব্যাক্তি বা সংশ্লিষ্টদের জন্য ব্যায় করতে হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বন্টন ব্যবস্থা, আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।5
(৮)-মূসাফির (যে সফরে গিয়ে অভাবে পতিত হয়েছে) উপরউল্ল্যেখিত ব্যাক্তি বা সংশ্লিষ্টদের জন্য ব্যায় করতে হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বন্টন ব্যবস্থা, আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।5
“দান-ছাদকা
গুনাহ মিটিয়ে ফেলে যেমন পানি
আগুনকে নিভিয়ে ফেলে।” (সহীহুল
জামে/৫১৩৬)
ধন-সম্পদের
প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা’আলা।
তিনি যাকে ইচ্ছা উহা প্রদান
করে থাকেন। এজন্য এ সম্পদ
অর্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে
তাঁর বিধি-নিষেধ
মেনে চলা আবশ্যক। সৎ পন্থায়
সম্পদ উপার্জন ও সৎ পথে উহা
ব্যয় করা হলেই তার হিসাব
প্রদান করা সহজ হবে। কিয়ামতের
দিন যে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর
না দিয়ে কোন মানুষ সামনে যেতে
পারবে না,
তম্মধ্যে
দু’টি প্রশ্নই ধন-সম্পদ
বিষয়ক। প্রশ্ন করা হবে,
কোন
পথে সম্পদ উপার্জন করেছ এবং
কোন পথে উহা ব্যয় করেছ।
সন্দেহ
নেই ধন-সম্পদ
নিজের আরাম-আয়েশ
এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের
ক্ষেত্রে ব্যয় করার অনুমতি
ইসলামে আছে এবং অনাগত সন্তানদের
জন্য সঞ্চিত করে রাখাও পাপের
কিছু নয়। কিন্তু পাপ ও অন্যায়
হচ্ছে,
সম্পদে
গরীব-দুঃখীর
হক আদায় না করা। অভাবী মানুষের
দুঃখ দূর করার প্রতি ভ্রুক্ষেপ
না করা। অথচ আল্লাহ বলেন:
وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ، لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ
এবং
তাদের সম্পদে নির্দিষ্ট হক
রয়েছে। ভিক্ষুক এবং বঞ্চিত
(অভাবী
অথচ লজ্জায় কারো কাছে হাত
পাতে না)
সকলের
হক রয়েছে।”6
কোন প্রকারের সদাকাহ (দান-খয়রাত) উত্তম; সুস্থ, কৃপণ কর্তৃক সদাকাহ প্রদানঃ
কোন প্রকারের সদাকাহ (দান-খয়রাত) উত্তম; সুস্থ, কৃপণ কর্তৃক সদাকাহ প্রদানঃ
আল্লাহর
বাণীঃ
وَأَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدَكُمْ الْمَوْتُ}
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لاَ بَيْعَ فِيهِ وَلاَ خُلَّةَ إِلَى الظَّالِمُونَ} إِلَى آخِرِهِ
‘‘আর
তোমরা তা হতে ব্যয় করবে যা আমি
তোমাদেরকে রিয্ক হিসেবে দিয়েছি
তোমাদের কারো মৃত্যু আসার
পূর্বে।’’ (আল-মুনাফিকূনঃ
১০)
তাঁর
আরো বাণীঃ হে মু’মিনগণ!
আমি
যা তোমাদেরকে রিযক্ হিসেবে
দিয়েছি তা হতে তোমরা ব্যয় কর
সে দিন আসার পুর্বে যে দিন
ক্রয়-বিক্রয়,
বন্ধুত্ব
এবং সুপারিশ থাকবে না। (আল-বাকারাঃ
২৫৪)
আবূ
হুরাইরাহ্ (রাঃ)
হতে
বর্ণিত। তিনি বলেন,
এক
সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর
কাছে এসে বললেন,
হে
আল্লাহর রাসূল!
কোন্
সদাকাহর সওয়াব বেশি পাওয়া
যায়?
তিনি
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেনঃ সুস্থ ও কৃপণ অবস্থায়
তোমার সদাকাহ করা যখন তুমি
দারিদ্রে্যর আশঙ্কা করবে ও
ধনী হওয়ার আশা রাখবে। সদাকাহ
করতে এ পর্যন্ত দেরী করবে না
যখন প্রাণবায়ু কণ্ঠাগত হবে,
আর
তুমি বলতে থাকবে,
অমুকের
জন্য এতটুকু,
অমুকের
জন্য এতটুকু,
অথচ
তা অমুকের জন্য হয়ে গেছে।7
মানব
সম্পদের মালিকানা ও বাস্তব
অবস্থা?
অধিকাংশ
মানুষ দান-খয়রাত
করতে চায় না। মনে করে এতে
সম্পদ কমে যাবে। তাই সম্পদ
সঞ্চিত করে রাখতেই সর্বদা
সচেষ্ট থাকে,
এমনকি
নিজের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেও
খরচ করতে কৃপণতা করে। অথচ
মানুষ জানে না সে কোন প্রকারের
সম্পদের মালিক?
তার
সকল সম্পদ মূলত চারভাগে বিভক্ত।
তিন প্রকারের সম্পদ তার নিজের।
বাকী এক প্রকারের সম্পদ তার
নয়;
যে
প্রকারের সম্পদ মানুষ জমা
করে ও সঞ্চিত রাখে। রাসূলুল্লাহ্
(ছাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বলেন:
(يقُولُ
العَبْدُ :
مَالي
، مَالي ، وإنَّما لَه من مَالِهِ ثَلاثٌ
:
ما
أكَلَ فأفْنَى ، أو لَبِسَ فأبْلَى، أو
أعْطَى فأقْنَى ـ وفي رواية :
أو
تصدق فأبقى ، وما سوى ذلك فَهُوَ ذَاهِبٌ
وتاركُهُ لِلنَّاسِ))
[
مسلم
عن أبي هريرة]
“মানুষ বলে আমার সম্পদ আমার সম্পদ অথচ তিনটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সম্পদই শুধু তার। যা খেয়ে শেষ করেছে, যা পরিধান করে নষ্ট করেছে এবং যা দান করে জমা করেছে- তাই শুধু তার। আর অবশিষ্ট সম্পদ সে ছেড়ে যাবে, মানুষ তা নিয়ে যাবে।” (সহীহ মুসলিম)
শয়তান
মানুষকে দান করতে বাধা দেয়:
Devils
Always forbiden people from charity: the following Hadish is the
exact wonderful scenario of millions of Muslims who delay to charity
in the time of ease:
عَنْ
بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيِّ رَضِيَ الله
عَنْهُ قَالَ :
قَالَ
رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ :
" مَا
يُخْرِجُ رَجُلٌ شَيْئًا مِنْ الصَّدَقَةِ
حَتَّى يَفُكَّ عَنْهَا لَحْيَيْ سَبْعِينَ
شَيْطَانًا "
أخرجه
البيهقي فى شعب الإيمان (
3 / 257،
رقم 3474
) أحمد
(
5 /
350،
رقم 23012
)،
والحاكم (
1 / 577،
رقم 1521
) وأخرجه
أيضًا :
ابن
خزيمة
সীরাত স্টাডি সেন্টারে যে কোন অনুদান পাঠাতে চাইলে বিকাশ করুন: +৮৮০১৭১১৪৭৫৮৮৭, এবং মেসেজ বা ফোন কল করে নিশ্চিত করুন। দয় করে ই-মেইলে আপনার মতামত জানান: omorbinkarim@gmail.com
রেফারেন্স:
1.
সুনানে
ইবনে মাজাহ,
প্রথম
খন্ড,
১০৮১
নং হাদিস,
https://www.hadithbd.com/
show. php?BookID=9&SectionID=343
2.
সূরাহ
আল-বাকারাহ,
২:২৪৫
3.
সূরা
আত তাওবা ৯:৩৪-৩৫
(৪৫৬৫,
৪৬৫৯,
৬৯৫৭)
(আধুনিক
প্রকাশনীঃ ১৩১২,
ইসলামিক
ফাউন্ডেশনঃ ১৩১৮)
5.
সূরা
আত তাওবাহ,
৯:৬০
6.
সূরাতুল
মাআরেজ,
৭০:২৪-২৫)
7.
বুখারী,
আধুনিক
প্রকাশনীঃ ১৩২৭,
ইসলামিক
ফাউন্ডেশনঃ ১৩৩৩,
২৭৪৮,
মুসলিম
১২/৩১,
হাঃ
১০৩২,
আহমাদ
৯৭৭৫)
)

Comments
Post a Comment